যশোর, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গ্রামীণ এলাকার মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬’-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। সেমিনারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, শিক্ষা সহায়তা, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল শিক্ষার্থীদের ‘জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ’ কার্যক্রম। এই পর্বে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে এবং তারা বড় হয়ে কী হতে চায়, সেই স্বপ্ন ও লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহিত করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়াই নয়, বরং তাদের পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত দিকনির্দেশনা, পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আর্থিক ও শিক্ষা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মেধাকে বিকশিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি গড়ে তোলা। অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করেই থেমে না যায়, বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর প্রধান কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আব্দুর রজ্জাক, প্রাক্তন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক, চণ্ডীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঘারপাড়া, যশোর।
দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও শিক্ষা প্রশাসনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি, নিয়মিত দিকনির্দেশনা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সেমিনারে বাঘারপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, প্রাক্তন স্বনামধন্য শিক্ষক, তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার প্রতিনিধিবৃন্দ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর স্বপ্নদ্রষ্টা মোঃ মাসুম হোসেন।
এছাড়াও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তানিয়া আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়; মহিউদ্দিন আন্দালিব, বিপণন বিভাগের প্রধান, সার্ভেয়ার বাংলাদেশ; এবং অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম, প্রধান, ফার্মেসি বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। একটি শিশুর মেধা ও সম্ভাবনা বিকশিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, সুযোগ এবং সময়মতো সহায়তা। সেই লক্ষ্যেই প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর এই উদ্যোগ।
তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডা মনে করে, “শিক্ষা কোনো সুযোগ নয়, এটি প্রত্যেক শিশুর অধিকার।” এই বিশ্বাস থেকেই গ্রামীণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বপ্নপূরণের পথে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু করা হয়েছে।
প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর মূল পরিকল্পনাকারী ও তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার প্রধান নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাসুম হোসেন বলেন, “প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।”
তিনি প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর সফল বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার প্রত্যাশা, এই ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী একদিন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ ও সম্ভাবনাময় করে তুলতেই প্রজেক্ট মেরিট কেয়ার-২০২৬-এর এই দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা।