ভাবতাম পানি সহজলভ্য, সবার ঘরেই আছে; ধারণা বদলে যায় গত বছর শীতে যখন এক বৃদ্ধা তার বাড়ির জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপনের অনুরোধ করেন। বিষয়টি আমাকে খুব ভাবিয়ে তোলে, শুরু করি পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। আমার নজর কাড়ে বেশ কয়েকটি পরিবার যারা খাবার পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়। গ্রামের মতই চিত্র চাষের জমি,ফসলের খেতে। সরকারিভাবে ফসলি খেতের মাঝে এলাকাভিত্তিক বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও তা কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে তারা জানান;ক্লান্ত শরীরে পানি সংগ্রহের জন্য এগিয়ে যেতে হয় বেশ কিছু দুর।
ইচ্ছা জাগতে থাকে এই মানুষগুলোর কাছে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতের,ঠিক যেমন ইচ্ছে করেছিলো গ্রামের মানুষদের জন্য একটি ফ্রী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার। বিশ্বাস ছিলো ঠিক যেভাবে স্বপ্নের মতোই ফ্রী ক্লিনিক স্থাপনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার, টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে ঐ পরিবারগুলোর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের স্বপ্নটাও পূরণ হবে। দীর্ঘ এক বছরের পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনার সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করলাম তাবাসসুম ফাউন্ডেশন,কানাডার অভ্যন্তরীণ আলোচনা সভায়। আমার সাথে সহমত পোষণ করে উত্থাপিত প্রস্তাব ও পরিকল্পিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাবাসসুম ফাউন্ডেশন, কানাডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুম হোসেন সহ প্রায় সকলেই। তার সিদ্ধান্তক্রমে এই বছর থেকেই গ্রহণ করা হয় অসহায় সে সকল পরিবার ও ফসলি খেতের ধারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতের মেগা প্রকল্প।
“এক ফোটা বিশুদ্ধতার অঙ্গীকার” স্লোগানে শুরু হয় আমাদের টিউবওয়েল স্থাপনের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, মুহুর্তেই আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবতায় রূপ নিতে থাকে।
মনে পড়ে গেলো ঠিক এভাবেই বাস্তবে রূপ নিয়েছিলো আমার প্রথম স্বপ্ন ফ্রাইডে ফ্রী ক্লিনিক ও ২য় স্বপ্ন গ্রামীণ শিক্ষা উন্নয়নের স্বপ্ন।
আলহামদুলিল্লাহ, আমার সে স্বপ্নগুলো যেভাবে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি, এবারও নিশ্চয়ই পারবো৷
ধন্যবাদ মো: মাসুম হোসেন, ধন্যবাদ তাবাসসুম ফাউন্ডেশন পরিবার, ধন্যবাদ আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শুভাকাঙ্ক্ষী।
আপনাদের চিন্তাধারা, আপনাদের একাগ্রতা, আপনাদের মমতা ও ভালোবাসায় এভাবে আমার স্বপ্নের মধ্য দিয়ে বাস্তবে রূপ নিতে থাকুক প্রকাশ করতে না পারা হাজারো মানুষের লালিত স্বপ্ন।
